Artificial Intelligent Bangla, Bangla Blog

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা)

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে আলোচনার শুরুতে একটা উদাহরণ দেয়া যাক।ই কমার্স এর কল্যাণে আমরা এখন ঘরে বসেই কেনাকাটার কাজটাও করে ফেলতে পারছি।এছাড়াও ই কমার্স ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশন এর মাধ্যমে অনলাইনে কেনাকাটার কাজ আমাদের জন্য এখন অনেক সহজ ও কম সময়ে করা সম্ভব হচ্ছে।তবে আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি যে আমরা ই কমার্স সাইট/এপ্লিকেশনে যে জিনিসটি সম্পর্কে সার্চ/অনুসন্ধান করে থাকি এবং যে পণ্য সম্পর্কে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে থাকি সেই একই পণ্যগুলো আমাদেরকে কিছুক্ষণ পর অন্য সাইট/এপ্লিকেশনে কেন এড হিসেবে দেখানো হয়?
ঠিক একইভাবে ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখলে সেটার পাশে সাজেশনে রিকমান্ডেড ফর ইউ তে একই টপিকের ভিডিও দেখায় কেন?
হ্যাঁ,এখানেই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিষয়টা সম্পর্কিত!

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পিউটার বিজ্ঞানের একটি শাখা, যেখানে মানুষের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তা শক্তিকে কম্পিউটার দ্বারা অনুকৃত করার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।যার মূল উদ্দেশ্য কম্পিউটার যেন মানুষের মত করে ভাবতে পারে,কারণ যন্ত্র মানুষের মত ক্লান্ত হয় না বরং একনাগাড়ে কাজ করতে পারে এবং যন্ত্রের ভুল করার সম্ভাবনা থাকে না। যেহেতু প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের কাজ কম সময়ে ও সহজে করার জন্য সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাতে সন্দেহাতীতভাবে বলা যায় কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা পরবর্তীতে একাজগুলো আরো দ্রুত করতে  সহায়তা করবে।যন্ত্র যখন মানুষের মত চিন্তা করতে পারবে তখন সে মানুষের মত শেখার সক্ষমতাও অর্জন করবে আর এর মাধ্যমেই যন্ত্রের সাহায্যে কাজ করা আরো সহজ হয়ে যাবে।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে সংক্ষেপে ‘এআই(AI)’ বলা হয়।এলান টুরিংকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার জনক বলা হয়।১৯৫০ সালে কোন মেশিন বুদ্ধিমান কি না তা জানার জন্য ‘টুরিং টেস্ট’ নামক একধরণের টেস্ট করেন।এটি মূলত এমন এক টেস্ট যার মাধ্যমে জানা যায় কোন যন্ত্র চিন্তা করতে সক্ষম কি না।প্রশ্ন হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে কি মানুষের মস্তিষ্কের সাথে মেশিনের সম্পর্ক জুড়ে দেয়া সম্ভব?এলন মাস্ক এর নিউরালিঙ্ক ইতিমধ্যে এই লক্ষ্যে কাজ করছে।

কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের মতে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ৩টি ভাগ রয়েছে যথাঃANI(artificial narrow intelligence),AGI(artificial General intelligence) ও ASI(artificial super intelligence).
ANI এর মাধ্যমে মূলত কোন কম্পিউটার নির্দিষ্ট একটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারে,যেমন যে কম্পিউটারকে দাবা খেলতে শেখানো হবে সে শুধু দাবা-ই খেলতে পারবে।এমন একটি বিখ্যাত কম্পিউটার আইবিএম এর ‘ডিপ ব্লু’ যা ১৯৯৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তখনকার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে ১ম রাউন্ডেই হারিয়ে দিয়েছিল।
যদিও গ্যারি ৬সেটের ম্যাচটি ৪-২ এ জিতে নেন সেবার যার মধ্যে আরো দুইটি ছিল ড্র ম্যাচ।
এরপর ডিপ ব্লুকে আরো উন্নত করা হয় ফলে ১৯৯৭ সালের মে মাসেই অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ডিপ ব্লু রিম্যাচটি ৩.৫-২.৫ ব্যবধানে জিতে নেয়!যেটি কম্পিউটারের কাছে মানুষের হেরে যাওয়ার এটিই প্রথম নজির হিসেবে পরিচিত।

এখানে উদাহরণ হিসেবে আমরা এপলের ‘সিরি’ বা গুগল এসিট্যান্টের কথা বলতে পারি।আমরা যখন ওকে গুগল বলে গুগল এসিটেন্টকে সক্রিয় করে যখন বলি ‘can you sing a song?’ তখন দেখা যায় প্রথমে can/you শব্দগুলো যখন সে বুঝতে পারে না তখন সে পরবর্তী শব্দটি শোনার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে।এর ফলে can you sing a এতটুকু বলার পর সে বুঝতে পারে তাকে পরবর্তীতে কি বলা হতে পারে!
এখানে can you sing a এর পর song শব্দটি একটু অস্পষ্ট করে বলা হলেও সে ধরতে পারে যে তাকে আমরা গান গাইতে বলছি!

তবে গুগল এসিট্যান্টের সাহায্যে গান শোনা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়!কিছুদিন পর আমরা যখন রেস্টুরেন্টে যেতে চাইবো তখন গুগল এসিট্যান্টের সাহায্যেই আমরা সেখানে তখন ফাঁকা আছে কি না,ফাঁকা না থাকলে আমাদের সুবিধামত সময়ে সেখানে বুক করে রাখতে এমনকি আমাদের মেন্যু তখন এভেইলেবল থাকবে কি না তাও জানা যাবে।এছাড়াও উবার/পাঠাও এর মত রাইড শেয়ারিং এপ্লিকেশন যখন আমরা ব্যবহার করতে চাইবো তখন আমাদের আর ড্রাইভারের সাথে ফোনালাপ করা লাগবে না,এ কাজটি গুগল এসিট্যান্টই আমাদের জন্য করে দিতে পারবে যার জন্য আমাদেরকে শুধু পিক আপ পয়েন্ট আর ডেস্টিনেশন তাকে জানালেই হবে!

এখন প্রশ্ন আসতে পারে যে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার আমরা ফ্রীতেই করতে পাচ্ছি তাহলে এর মাধ্যমে কি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব?
অবশ্যই,কেননা আমরা যখন গুগল ম্যাপ ব্যবহার করি তখন একে আমরা আমাদের লোকেশন ট্রাক করার অনুমতি দিয়ে দিই।ফলে কোন এলাকায় যখন ম্যাপ আমাদের ট্রাফিক শো করে এটি আমাদেরকে মূলত আমাদের লোকেশন ব্যবহার করতে দেয়ার মাধ্যমেই সাহায্য করে থাকে!
আর যখন আমরা উবার ওপেন করি তখন কিন্তু তা গুগল ম্যাপ ই শো করে।অর্থাৎ গুগলকে এর জন্য উবারের নির্দিষ্ট চুক্তিমাফিক অর্থ দেয়া লাগে।
এছাড়াও উবার নির্দিষ্ট এলাকার ম্যাপ অনুযায়ী তাদের ইউজার,রাইড শেয়ারকারী ও পর্যাপ্ত গাড়ির সংখ্যা ও নির্দিষ্ট সময়ে গাড়ির সংখ্যা অনুযায়ী ভাড়া ঠিক করে থাকে।ভাড়া ঠিক করার এ কাজটিও আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাহায্যে সম্ভব!
বর্তমানে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে,২০১৬ এর তুলনায় ২০১৭ তে এ খাতে বিনিয়োগের হার ৩০০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স মূলত কোন একক বিষয় না বরং এটি মেশিন লার্নিং এবং মেশিন লার্নিং এর একটি সাব সেট হচ্ছে ডিপ লার্নিং।মেশিন লার্নিং বলতে মূলত বোঝায় অনেক ডাটা থেকে সংক্ষিপ্ত কিছু কিন্তু অর্থবহুল তথ্য বের করে আনা এবং আর সে অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার মত প্রোগ্রাম।যেমন জিমেইলে স্পাম মেসেজগুলো সরাসরি স্পাম মেসেজে চলে যায়,কোন মেসেজে ‘you have won $500,000’ বা এই ধরণের অংশ থাকলে তা খুঁজে বের করে স্পাম ফোল্ডারে পাঠিয়ে দেয়া হয় এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে।এভাবেই আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স এখন থেকেই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ভূমিকা রাখা শুরু করছে।

Author


Avatar